বাবার ইচ্ছে পূরণ ও মানুষের সেবা করার জন্যই ডাক্তার হয়েছি: ডাক্তার মো. রাসেল

324

মোঃ জিয়াউর রহমান: নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের কৃতি সন্তান ঐতিহ্যবাহী কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্র মোঃ রাসেল ৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষায় সহকারী সার্জন হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই কৃতি শিক্ষার্থী কে ইউনিয়ন বাসী অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে এবং এলাকার ও দেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রমের পর আজ স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

এই মেধাবী শিক্ষার্থীর স্মৃতি বর্ণনা করতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তাঁর গণিত বিষয়ের শিক্ষক মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন আমার দীর্ঘ ১৬ বছরের শিক্ষকতার বয়সে রাসেল এর ছিলো অন্যতম মেধার অধিকারী এবং ছাত্র জীবনে ছিলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও অমায়িক।

কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বড় ভাই একজন সার্জন হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে গর্বিত কারণ আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষ ওনার কাছ থেকে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশা করি।

এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে নবাগত সহকারী সার্জন মোঃ রাসেল নিজের অনুভূতি বর্ণনা করেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

বিসিএস পর্যন্ত কিভাবে আসলামঃ
৬৩ নং রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক এবং কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষে সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হই উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য। তারপর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করি ২০১৭ সালের জানুয়ারী তে। সেখানেই ১ বছর ইন্টার্নিশিপ শেষ করে ২০১৮ সালে ৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি যার ফলাফল গতকাল প্রকাশিত হয়েছে এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি সহকারী সার্জন হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছি।

বর্তমানে কী করছিঃ
এখন আমি ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং এ আছি। পাশাপাশি প্রত্যেক বৃহস্পতিবার আড়াইহাজার জেনারেল হাসপাতালে চেম্বার করছি।

উল্লেখযোগ্য অর্জনঃ
পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে স্কলারশিপ, এসএসসি ও এইচএসসি তে জিপিএ ৫ এবং এমবিবিএস পরীক্ষায় ৮০% নম্বর প্রাপ্তি।

পরিবারে কে কে আছেনঃ
আমার বাবা আব্দুস সালাম ব্যাপারি আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন, মা আম্বিয়া খাতুন এখনো বেঁচে আছেন। আমি আমার মায়ের জন্য সবাইর কাছে দোওয়া কামনা করছি। ৫ বোন ও ৪ ভাই এর মধ্যে আমি সবার ছোট। এখন আমি আমার বড় ভাইয়ের সাথে থাকি।

কেন ডাক্তার হলামঃ
ছোট বেলা থেকে আমি নিজেই এই মহান পেশাটার প্রতি আলাদা টান অনুভব করতাম।
তাছাড়া আমার বাবা চাইতেন আমি ডাক্তার হই। কেননা উনার মা বাবা উনি একদম ছোট থাকতেই মারা যান যখন আমাদের এলাকায় কোন চিকিৎসার ব্যবস্থাই ছিল না। এজন্যই আমদের এলাকায় রাধানগর বাজারের পাশের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইউনিয়ন সাব সেন্টারটির জন্য জমি দান করেন। কিন্তু সেখানেও মানুষ যথাযথ চিকিৎসা পেতনা বলে আমার বাবাকে আমি আফসোস করতে দেখেছি। তাই উনি চাইতেন আমি বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে সব মানুষের সেবা করি।এটাও আমার অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কীঃ
আমি মেডিসিনে এফসিপিএস এবং কার্ডিওলজিতে এমডি ডিগ্রী অর্জন করতে চাই।

এলাকার মানুষের জন্য পরিকল্পনাঃ
এলাকার মানুষকে কাছে থেকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্যই আমার বিসিএসে আসা। আমার নিজ উপজেলাতে যদি আমার পোস্টিং হয় তাহলে আমার ইউনিয়ন সাবসেন্টারে প্রত্যেক সপ্তাহে একদিন এসে সেবা দিতে চাই। তাছাড়া আমার ফ্রি টাইম এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবসে আমার এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে মানুষকে সেবা দিতে চাই। উল্লেখ্য আমি গত ১৬ই ডিসেম্বরে আমার এলাকায় প্রায় ২০০ মানুষের ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছি।

যাঁদের অবদান স্বীকার করতে চাইঃ
আমার পরিবারের সব সদস্য বিশেষ করে আমার বড় ভাইয়া মোঃ জাকির হোসেন, আমার স্কুল, কলেজ ও মেডিকেলের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং আমার কাছের বন্ধুরা আমার এই সাফল্যে অনেক বড় ভুমিকা পালন করেছে।আমি আমার পরিকল্পনা মত যেন সবকিছু করতে পারি, আল্লাহ যেন আমার সহায় হন সেজন্য আমি সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।

SHARE

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen + 13 =