প্রয়োজনে হাজার বার মাফ চাইব: নাসিক মেয়র আইভী

79

মোঃ জিয়াউর রহমান : ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক প্রারম্ভিক সভায় প্রধান অতিথি নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবায় বিভিন্ন কাজের জন্য প্রয়োজনে ‘জনস্বার্থে আমি ১০ বার না হাজার বার মাফ চাইতে পারবো। তবুও কাজ করে যাবো।’ কোন প্রলোভন কিংবা ভয়ভীতি আমাকে বিচ্যুত করতে পারবে না। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় ও জাতীয় গৃহায়ন ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর বাস্ত্যবায়নে ‘স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রারম্ভিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্পর্কে জাতীয় গৃহায়ণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক বিজয় কুমার মন্ডল বলেন, সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ‘স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা’ শীর্ষক জনসমষ্টি ভিত্তিক পাইলট প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। পরীক্ষামূলক এ প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০১৯ সাল পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিকভাবে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সে অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া, ১৮নং ওয়ার্ডের আল আমিন নগর, ১৯নং ওয়ার্ডের শান্তিনগর ও ২১নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া কাজ শুরু হবে। আর প্রকল্প অনুযায়ী ওই এলাকার মানুষকে নতুন ভবন নির্মাণ, পুরাতন ভবন সংস্কার ও ভবন বর্ধিতকরণের জন্য সহজ ও স্বল্প হারে ঋণ দেয়া হবে। একই সঙ্গে ওইসব এলাকায় রাস্তা, ফুটপাত, ড্রেন, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ, খেলাধুলার মাঠ, স্কুল, মার্কেট সহ সার্বিক উন্নয়ন করা হবে। যার অর্থায়ন করবে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও সার্বিক সহযোগিতায় সিটি কর্পোরেশন।

মেয়র আইভী বলেন, ২০০৩ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৭ বছর ধরে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এখনও পর্যন্ত যেসব পাইলট প্রকল্প আমাদের সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু হয়েছে সবই এখানে সফল হয়েছে। যার অনেক উদাহরণ আছে। এর ধারবাহিকতায় অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হয়েছে। আশা করছি এ প্রকল্পটিও সফল হবে। এর জন্য আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো।

নাসিক মেয়র বলেন, পৌরসভার সময় একটি ক্লাবকে সুইমিং, সুবজায়ন সহ বিভিন্ন চুক্তির ভিত্তিতে জায়গা লিজ দেয়া হয়। কিন্তু ৬০ বছর পর দেখা যায় তারা চুক্তি অনুযায়ী কিছুই পূরণ করেনি। তাই সিটি কর্পোরেশনের জায়গা বুঝে নেওয়া হয়েছে। এজন্য মামলা করলেও সিটি কর্পোরেশন মালিকানায় পক্ষে রায় আসে। পরে বাধ্য হয়ে ভবনটি ভেঙে দেওয়া হয়। যার জন্য আবার আদালতে আমার নামে মামলা দেয়। আমি মামলাকে ভয় পাই না। জনস্বার্থে আমি ১০ বার না হাজার বার মাফ চাইতে পারবো। প্রকল্প পরিচালক এসএএম ফজলুল কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামূল হক, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ড. একেএম নূরুজ্জামান, বিশ্ব ব্যাংক প্রতিনিধি মিজ সোনিয়া এম সুলতানা সহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

SHARE

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

16 − 5 =