চলচ্চিত্রে চির নিবেদিত মানুষ আড়াইহাজারের অনুপম হায়াৎ

218

অরণ্য সৌরভ : গ্রামে থাকতেই সিনেমার প্রতি আগ্রহ জন্মেছিল। প্রথম সিনেমা দেখেছিলে একটি প্রচারচিত্র। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় ১৯৬৪ সালে গ্রামের বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে ‘সুতরাং’ দেখে আবেগে ভেসেছিল। ১৯৫৮ সালে ঢাকায় এসে রূপমহলে উত্তম-সুচিত্রার ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ১৯৬১ সালে দিলীপ কুমারের ‘আন’ দেখার স্মৃতি কোনো দিন ভুলবেনা। ১৯৬৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে চলে এলেন ঢাকায়। এর পর থেকে সময় পেলেই হলে চলে যাওয়া। রাজ্জাক-কবরীর ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘এতটুকু আশা’, উর্দু ছবি ‘মুজাহিদ’-এর কথা অনেক বেশি মনে পড়ে এখনো। সব কিছুর পরও প্রধান আকর্ষণ তাঁর বইয়ের প্রতিই ছিল। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়ে সিনেমার প্রতি ম‚ল আগ্রহটা তৈরি হয়েছিল। কেন সিনেমা দেখে মানুষ আন্দোলিত হয়? মনে এই রকম প্রশ্ন জাগার পর থেকেই সিনেমা দেখার আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই চিত্রালীর খুব ভক্ত ছিলেন। এই সিনেমা পত্রিকাটি অনুপমকে খুব টানত। তখন থেকেই জহির রায়হান, কাজী খালেক, সুমিতা দেবী, কবরী, সুলতানা জামানের নাম জানে। ঢাকায় এসেই অন্তরঙ্গ, জোনাকি, ঝিনুক, মালঞ্চ পড়া শুরু করলেন।


আলমগীর কবিরের লেখার স্টাইল খুব ভালো লাগত। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে ‘অন্তরঙ্গ’তে তাঁর সাক্ষাৎকার পড়ে চমকে গেলেন, গণিত ও পদার্থবিদ্যায় খুব ভালো হলেও তিনি আর্ট-কালচার-সিনেমায় খুব আকৃষ্ট ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ব্রিটেনে গিয়ে লন্ডনের টেমস নদীতে সব সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ফেলে মনের খেদে বলেছিলেন, মা-বাপ আমাকে ভুল শিক্ষা দিয়েছেন। এই ঘটনা খুব আন্দোলিত করল তাঁকে। মানুষ মেয়েদের প্রেমে পড়ে, সেদিন থেকে তিনি আলমগীর কবিরের লেখার প্রেমে পড়ে গেলেন। তারপর তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা ফিল্ম ইনিস্টিটিউটে ভর্তি হলেন।
১৯৭২ সাল থেকে প‚র্ব ও পশ্চিম ইউরোপের ছবিগুলো আসছিল, ভারতীয় ছবিগুলো দেখানো হচ্ছিল। ফিল্ম উইকগুলোতে যেতেন, ছবি দেখতেন। তাঁর ইনস্টিটিউটে পড়ার স‚ত্র ধরে ১৯৭২ সাল থেকে নানা জায়গায় চলচ্চিত্রের বাস্তবতা ইত্যাদি বিষয়ে লেখালেখি শুরু করলেন। পোল্যান্ডের ছবি দেখে চিত্রালীতে চিঠি লিখলেন আমাদের চলচ্চিত্রকার, দর্শকরা এই ছবিগুলো কেন দেখলেন না? তাহলে তো তাঁরা বুঝতে পারতেন, যুদ্ধের পর দেশটি কিভাবে উন্নতি করেছে, সেভাবে আমাদের এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশেরও উন্নতি সম্ভব হতো। এটিই তাঁর সিনেমা বিষয়ে প্রথম লেখা। ১৯৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর চিত্রালীতে লিখলেন, ‘আর্ট ফিল্ম বুঝতে হলে মাথা চাই।’ আর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ। এর পর থেকে নিয়মিত সিনেমা দেখে চিত্রালী, জনপদ, প‚র্বাণী, আজাদ, সচিত্র বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সংবাদে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে লিখেছে।
১৯৬৬ সালে ভ‚মি রাজস্ব বোর্ডে চাকরিতে যোগ দিলেন। তবে লেখালেখির শখ থেকে দেশবাংলায় পার্টটাইম কাজ করতেন। ‘ডুমুরের ফুল’ সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে সুভাষ দত্তের সাক্ষাৎকার নিয়ে ছাপালেন। পরে চাবুক ও মুক্তিবাণী পত্রিকায় কাজ করেছেন। মুক্তবাণীতে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে বিনোদন ও সাহিত্য বিভাগ দেখেছেন। সিনেমার পাশাপাশি সমকালীন প্রসঙ্গ দুর্নীতি, সামাজিক অবক্ষয় নিয়েও গঠনম‚লক লিখেছিল তিঁনি। ১৯৭৩ সালে টিসিবিতে (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) যোগ দিলেন। এখানে প্রতি একুশে ফেব্রুয়ারির সংকলন, সম্ভার ও স্ট্রেট ট্রেড নামের দুটি হাউস ম্যাগাজিনের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে বিচিত্রায় প্রদায়ক হিসেবে কাজ শুরু করলেন। ফলে রিপোর্টিংয়ে সুযোগ পেলেন। তখন বিচিত্রা খুবই প্রভাবশালী পত্রিকা। ফলে চলচ্চিত্র নিয়ে লেখালেখি ও গবেষণার দিগন্ত খুলে গেল তাঁর। সিনেমা নিয়ে গবেষণার শুরু হলো। বিচিত্রায় ১৯৭৭ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যায় প‚র্ব-পাকিস্তানের প্রথম ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পরিচালক আবদুল জব্বার খানের নেওয়া সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হলো। ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস’ রচিত বইয়ে ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণের ইতিহাস রয়েছে। চলচ্চিত্রের ইতিহাস নিয়ে ১৯৭৮ সালের ২৩ জুন ছাপা হয়েছিল ‘স্মৃতির মুখ : হারানো ছবি’। তখনই ফিল্ম আর্কাইভ চালু হয়েছিল। এসব দেখে শাহরিয়ার কবির খুব খুশি হলেন। তিনি পরামর্শ দিলেন, ‘অনুপম, এর আগেও তো ঢাকায় ছবি তৈরি হয়েছে। আপনি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কাছে যান। তাঁর সঙ্গে নবাব পরিবারের যোগাযোগ আছে। তিনি এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।’

যেভাবে ‘চলচ্চিত্র গবেষক’ অভিধাটি যুক্ত হলো:
খাজা হালিমের কাছে নবাব পরিবারের অনেক ডায়েরি ছিল। তিনি তাঁদের পরিবারের ফটো অ্যালবামও সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। প্রতিদিন দুপুর ২টার পর অফিস শেষ করেই চলে যেতেন। তিনি ১৯০৪ সালের পর থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত তাঁদের পরিবারের সদস্যদের লেখা ডায়েরিগুলো উর্দু থেকে বাংলায় অনুবাদ করে শোনাতেন। নোট করে নিতেন হায়াৎ। পরে এগুলো নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়া পরিবারের ডায়েরিতে ঢাকার সমাজ ও সংস্কৃতি’। ডায়েরিগুলোতে সিনেমার অনেক অজানা তথ্যও আছে। এর পরই সিনেমা নিয়ে তাঁর পুরোদমে গবেষণা শুরু হলো। গবেষণার ফলাফল নিয়ে বিচিত্রা, বাংলার বাণী ছাড়াও বিভিন্ন সিনেমা কাগজে একের পর এক প্রবন্ধ লেখা শুরু হলো। নামগুলোও অন্য রকম দিয়েছিল ‘নাটকের সুপ্রভাত’, ‘চলচ্চিত্রের ট্র্যাজেডি’। তাঁর লেখাগুলো ইতিহাসবিদ ও গবেষক মুনতাসীর মামুনের চোখে পড়ল। তিনি বললেন, ‘বাংলা একাডেমি লাইব্রেরির ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ স্মৃতি পাঠাগার থেকে আপনি পুরনো দিনের ছবির কিছু খবরাখবর পেতে পারেন।’ সেখানে গিয়ে শত শত পত্রিকা ওল্টাতে শুরু করলেন অনুপম। হঠাৎ ১৯৩১ সালের ২৫ জুনের বাংলার বাণীতে ‘লাস্ট কিস’ ছবির বিজ্ঞাপন পেয়ে গেলেন। তাঁর আগে আর কেউ এটি উদ্ধার করতে পারেনি। ঢাকা ইস্ট বেঙ্গল সিনেমা সোসাইটির এটি প্রথম ছবি ছিল। ১৯৭৯ সালে বাংলার বাণী ও সাপ্তাহিক সিনেমায় কিভাবে ঢাকার প্রথম ছবির দুষ্পাপ্য ইতিহাস উদ্ধার করেছিলেন, সেই খবর ছাপা হয়েছিল। এর পর থেকেই নামের শেষে ‘চলচ্চিত্র গবেষক’ অভিধাটির ব্যবহার শুরু হলো।

চলচ্চিত্রের ইতিহাস যেভাবে লেখা শুরু করলেন:
কখন থেকে ঢাকার হলগুলোতে সিনেমা দেখানো শুরু হলো, সেই আমল থেকে পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করলেন। পরে ক্রমানুক্রমিকভাবে অধ্যায়গুলো সাজিয়েছিল। প্রথম অধ্যায় হলো ‘পুরান ঢাকার চলচ্চিত্র’। এই বইয়ের সব অধ্যায়ই গুরুত্বপ‚র্ণ। তবে ‘চলচ্চিত্রে বাঙালি মুসলমান’ অধ্যায়ের মতো তথ্যবহুল লেখা আর কোনো বইয়ে নেই, ছবিগুলোও খুব রেয়ার। এখানে যে ছবি আছে নজরুল, ফিরোজা বেগমের হাসোজ্জ্বল ছবিটি বিচিত্রা থেকে নিয়েছিল। ছবিগুলো বিচিত্রা, চিত্রালী, সিনেমা পত্রিকা থেকে নেওয়া। বাঙালি মুসলমানদের ছবির ইতিহাসের ম‚ল স‚ত্রটি পরিচালক উদয়ন চৌধুরী দিয়েছিলেন। পুরান ঢাকার বাসিন্দা ইসমাঈল মোহাম্মদ খুব সহযোগিতা করেছেন। অবজারভার সম্পাদক ওবায়েদ উল হকও পুরনো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ছবি দিয়ে সাহায্য করেছেন। তিনি ১৯৪৬ সালেই ‘দুঃখে যাদের জীবন গড়া’ নির্মাণ করেছিলেন। এই জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলেন। আব্বাসউদ্দীনকে তাঁর জীবনী থেকে জেনেছিল। ফতেহ লোহানীকে পেয়েছিল তাঁর স্ত্রী, কন্যা এবং কামাল লোহানীর কাছ থেকে। শাহরিয়ার কবির বনানী চৌধুরীর খবর দিয়েছিলেন। তিনি কলকাতা থেকে ঢাকায় এলে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। তিনি প্রথম বিএ পাস করা বাঙালি মুসলমান অভিনেত্রী। পৈতৃক বাড়ি মাগুরায় হলেও তিনি কলকাতায় থাকতেন। লোহানী পরিবারের কাছ থেকে কাজী খালেক সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিল। সওগাতের নাসিরউদ্দীন সাহেবের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তাঁর মেয়ে ন‚রজাহান (বেগম) আপা খুব সাহায্য করেছেন। সারোয়ার হোসেনও সহযোগিতা করেছেন। আবদুল জব্বার খান ‘মুখ ও মুখোশ’-এর মহরতের ছবিটি দিয়েছিলেন।
সংক্ষিত জীবনী:
অনুপম হায়াৎ (মতিউর রহমান ইয়া)-এর জন্ম ১৯৫০-এর ১ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর পূর্বতীরে উজান গোপিনী পশ্চিম পাড়ায়। গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা এবং সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে শিক্ষা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ১৯৭২-এ এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি এম.এ রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম পর্ব, এসোসিয়োটশিপ সাটিফিকেট কোর্স (চলচ্চিত্র) এবং ডি.এইচ.এম.এস পাশ করেন। কৈশোরে কবিতা লেখার মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য চর্চার স‚ত্রপাত। শিক্ষা ও চাকুরী ‘ চলচ্চিত্র, নজরুল রবীন্দ্রনাথের জীবন ও কর্ম, বাঙ্গালী মনীষীদের জীবন-চরিত ও ঢাকার ইতিহাস-সংস্কৃতি তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র।

প্রকাশিত গ্রন্থ:
এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত মোট গ্রন্থ ৩৬টি। প্রথম লেখা কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে কলেজ ম্যাগাজিনে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে অন্যতম হল, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস (গবেষণা-১৯৮৭), ফতেহ লোহানী (জীবনী-১৯৯৪), সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুর (জীবনী-১৯৯৫), নাট্যাঙ্গনে নজরুল (প্রবন্ধ। ১৯৯৭), নাট্যকারী নজরুল (গবেষণা-১৯৯৭), মেহেরবানু খানম (জীবনী-১৯৯৭), দোলন চাপার হিন্দোল (প্রবন্ধ-১৯৯৮), চলচ্চিত্র জগতে নজরুল (গবেষণা-১৯৯৮), সেকালে বাংলাদেশের কয়েকজন চলচ্চিত্র কমী (জীবনী-১৯৯৯), রঙ্গমঞ্চে নজরুল (গবেষণা-২০০০), পুরানো ঢাকার সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গ (গবেষণা-২০০১) প্রভৃতি।
তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি, বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি, বাংলা একাডেমী, নজরুল একাডেমী, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অধ্যয়ন কেন্দ্রের সঙ্গে সদস্য হিসেবে জড়িত। চলচ্চিত্রের শিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অধ্যয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ ফেডারেশন, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, ঢাকা ফিল্ম ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেছেন। বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ড, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জুরি কমিটিতে সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের অধীনে বিভিন্ন গবেষণাও তত্ত¡াবধান করেছেন।

পুরস্কার: তিঁনি বাসাস-এর এস এম পারভেজ স্মৃতি পদক (১৯৮৭), কবি জসীমউদাসীন সাহিত্য পরিষদ পদক, (১৯৮৮), নারায়ণগঞ্জ সাহিত্য সম্মেলন পদক (১৯৯৮), হাকিম হাবিবুর রহমান স্মৃতি পদক (১৯৯৯), বাংলাদেশ টেলিভিশন রিপোর্টার্স এসোসিয়োশন পদক পান।

বাংলাদেশের এবং বাংলার মানুষদের কাছে একজন চলচ্চিত্র শিক্ষক, গবেষক, বিশ্লেষক হিসেবেও পরিচিত তিনি। চলচ্চিত্রে চির নিবেদিত এ মানুষটির বেড়ে উঠা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স‚চনা থেকেই। তার কাছেই পাওয়া যায় আমাদের চলচ্চিত্রের সর্বদিক এবং সর্বাধিক উত্থান পতন ও সম্ভাবনার কথা।

SHARE

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × two =